সজিনা গাছের পাতাকে বিশেষ মেশিনে কুচি করে কেটে তৈরি করা হয় সজিনা পাতা গুঁড়া (Moringa Powder)। এই পাতার গুঁড়া এমনি পানিতে মিশিয়ে বা চায়ের মতন ফুটিয়ে নিয়েও গ্রহণ করা যায়। এর গুঁড়ার সাথে একটুখানি খাঁটি মধু আর লেবুর সংমিশ্রণে চমৎকার পুষ্টিকর পানীয় তৈরি করা সম্ভব যা আপনাকে রাখবে সজীব ও প্রাণবন্ত।
সজিনা পাতা গুঁড়ার উপকারিতা
১। পুষ্টির আধার বলে সুপরিচিত এই পাতার গুঁড়া দেহে শক্তির যোগান দেয়।
২। রাতে ঘুমানোর আগে সজিনা পাতার গুঁড়া বেশ উপকারী। এটি ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক।
৩। এতে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদানগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বহুলাংশে।
৪। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর চমৎকার উৎস। এতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলি অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
৫। নারীদের ঋতুস্রাবকালীন সময়ে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
৬। ওজন কমাতে এটি এক নতুন মাত্রা যোগ করে।
৭। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অপরিসীম।
৮। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
৯। সজিনা পাতার গুঁড়া উষ্ণ পানীয় হিসবে গ্রহণে সাইনাসের সমস্যার উপশম হয়।
১০। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুন কাজ করে এই সজিনা পাতার গুঁড়া।
আল আফদাল থেকে কেনো কিনবেন?
১। বাছাইকৃত সজিনা পাতা থেকে প্রস্তুত করা হয়।
২। সম্পূর্ণ নিজস্ব তত্ত্বাবধানে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
৩। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে প্রায় এক বছর সময় পর্যন্ত ভালো থাকে।
৪। ডাল বিহীন পাতা ব্যবহৃত হয়।
মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম
মরিঙ্গা পাউডার বা শজনে পাতার গুঁড়ো একটি সুপার ফুড। মানব শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সকল ভিটামিন ও মিনারেল উপাদান এই পাউডারে উপস্থিত। পুষ্টিগুণের উপর ভিত্তি করে পুষ্টি বিশেষজ্ঞগণ প্রতিদিন মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে সকালে, দুপুরে ও রাতে যে কোন সময় এই খাবার খাওয়া যায়।
তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে খালি পেটে ও ভরা পেটে এই পাউডার খাওয়া যাবে। নিচে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সকালে
আমরা জানি খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান রক্তের মাধ্যমে দেহের অন্যান্য অংশে পৌঁছায়। অর্থাৎ সকালে খালি পেটে কোন খাবার খাওয়া হলে তা থেকে পুষ্টিগুণ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পরে। অন্য খাবারের সাথে খেলে বা ভরা পেটে খেলে উপাদান গুলো পাকস্থলী থেকে দেহের সব জায়গায় পৌঁছতে সময় বেশি লাগে। এই কারণে বিশেষজ্ঞগণ সকালে খালি পেটে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
যদিও এই খাবারে কোন ক্যাফেইন থাকে না তবুও সারাদিন সতেজ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। এই কারণে শজনে পাতার গুঁড়াকে প্রাকৃতিক শক্তি বর্ধক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রাতে
গবেষণায় দেখা গেছে রাতের বেলা মরিঙ্গা পাউডার খেলে তা আমাদের ঘুমের জন্য অনেক উপকারী। বিশেষ করে রাতে আমাদের শরীর নানা ধরনের কর্মযজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। এই সময় শরীরের পর্যাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন পরে। শজনে পাতা আমাদের শরীরে এই সকল উপাদান সরবরাহ করে। বিশেষ করে রাতের বেলা মরিঙ্গা পাউডার দ্রুত হজম হয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে যায় এবং ফ্রেশ ঘুম হয়।
চায়ের সাথে
চা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানীয়। যে কোন আড্ডায় অথবা অবসর সময়ে আমরা চা খেতে পছন্দ করি। মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার জন্য চা একটি উত্তম মাধ্যম। তাছাড়া চায়ের সাথে এই পাউডার খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত কোন প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া এতে এক্সট্রা কোন খরচ করতে হয় না। তাছাড়া এটি চায়ের মধ্যে নিহিত পুষ্টিগুণ আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে গ্রিন টি হিসেবে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া অনেক উপকারী।
সরাসরি খাওয়া
কোন সম্পূরক খাদ্যের সাথে না মিশিয়ে শুঁকনো হিসেবে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া যায়। এতে অতি দ্রুত এই পাউডার হজম হয় এবং খাদ্য উপাদান ভেঙ্গে যায়। তবে এভাবে খাওয়া অনেকের কাছেই অসুবিধার মনে হবে। কারণ শুঁকনো পাউডার খাওয়া কখনোই সুখকর নয়। এই ক্ষেত্রে আপনি দুধের সাথে অথবা পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।
সালাদের সাথে
সালাদ একটি পুষ্টিকর ডায়েট প্ল্যান। সাধারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সালাদ অনেক ভালো কাজ করে। ওজন কমানো থেকে শুরু করে সালাদ খাওয়ার অনেক উপকারী দিক আছে। তবে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার জন্য সব জায়গায় সালাদ ব্যবহার করা হয়। এর কারণ এই পাউডার সালাদের সাথে বাড়তি পুষ্টি উপাদান যোগ করে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। তাছাড়া এর কোন ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
জুসের সাথে
সকাল বেলা জুসের সাথে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার একটি উপযুক্ত সময়। এটি আমাদের শরীর যেমন ঠান্ডা ও সুস্থ রাখে তেমনি শরীরের টক্সিক উপাদান গুলো বেড় করে দেওয়ার কাজ করে। লেবুর শরবতের সাথে শজনে পাতার গুঁড়া খাওয়া অনেক উপকারী। তবে বিভিন্ন ফলের রসের সাথে মিশিয়েও মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া যায়।
কেকের সাথে
আমরা তো সচরাচর বিভিন্ন ধরনের কেক খেতে পছন্দ করি। বিভিন্ন ফ্লেভার অথবা সম্পূরক উপাদান যোগ করে কেক তৈরি করে এর স্বাদ বৃদ্ধি করা যায়। মরিঙ্গা পাউডার দিয়ে কেক তৈরি করলে তা খেতে যেমন সুস্বাদু হয় তেমনি তা পুষ্টিগুণের কারখানা হিসেবে বিবেচিত হয়। তাছাড়া কেক তৈরি করলে তা দীর্ঘ সময় ধড়ে নানা সময়ে খাওয়া যায়।
বড়ি বানিয়ে
উপরিউক্ত পদ্ধতিতে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়া ঝামেলার মনে হলে একটি অতি সহজ পদ্ধতি আছে। যা আপনার সময় অনেক অংশে কমিয়ে দিবে এবং নির্দ্বিধায় উপকারিতা পাবেন। আমাদের দেশে জাতি নিমের পাতা বড়ি বানিয়ে খাওয়ার প্রচলন আছে। অনুরূপ মরিঙ্গা পাউডার দিয়ে বড়ি তৈরি করে তা খাওয়া ঝামেলা মুক্ত। এতে আপনি ওষুধের মত করে সকালে এবং রাতে এই পাউডার খেতে পারবেন।
মিক্সড ফুডের সাথে
হানি নাট, ড্রাই ফুড অথবা মিক্সড ফুড জাই বলি না কেন তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। তার সাথে যখন মরিঙ্গা পাউডার যোগ করা হয় তখন তার গুণাগুন অনেক অংশে বৃদ্ধি পায়। এই কারণে অনেক ক্ষেত্রে হানি নাটের সাথে মরিঙ্গা পাউডার মিশিয়ে তা খাওয়া হয়।